আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। নির্বাচনী মাঠের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করার পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রতি বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অস্ত্র উদ্ধার। এজন্য আমি পুলিশ সুপার মহোদয়, র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সকলকে অনুরোধ করব- সামনের নির্বাচনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে দেশে যে অস্ত্রের ঝনঝনানি আছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। সুতরাং আমরা আপনাদের থেকে এটার নিশ্চয়তা চাই।’
নির্বাচন ঘিরে মাঠে জাল টাকার ছড়াছড়ি ঘটতে পারে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “জাল টাকার বিষয়ে আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করব। যারা এর সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘লকডাউন বা রাস্তা বন্ধ করার কোন সুযোগ নেই এবং এর কোনো সম্ভাবনাও নেই। কেউ যদি এই ধারণা করে থাকে তাহলে আমি বলব যে, সে কল্পনার রাজ্যে রয়েছে। বাকিটা আমরা আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেখিয়ে দেব।’
মাদক নির্মূলে আইনজীবীদের পেশাগত কাজে আরও স্বচ্ছতা দায়িত্বশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘মাদক সকলের জন্য একটি হুমকি। যেদিন মাদক ব্যবসায়ে জড়িতদের শাস্তি ভোগ করতে হবে এবং তারা আদালতে গেলে জামিন পাবে না, সেদিনই মাদক নির্মূলে আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। এজন্য আমাদের অ্যাডভোকেট ভাইদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিলুফা ইয়াসমিন, ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল বাসার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, মহানগরের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, এনসিপি কেন্দ্রীয় দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শওকত আলীসহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





