সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

ধানের শীষ বাঁচাতে মান্নানকে অপসারণের দাবি, তারেক রহমানকে সাত নেতার চিঠি

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক তালিকায় ঘোষিত সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে এবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী সাত প্রার্থী তথা স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।


শিক্ষাসহ অন্যান্য যোগ্যতার মানদন্ডের বিচারে অযোগ্যতার কাতারে থাকা মান্নানকে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী করা হলে এই আসনের সচেতন ভোটাররা এই প্রার্থীর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি সোনারগাঁয়ে তার বিতর্কিত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দরুণ এই আসনে ধানের শীষের ভড়াডুবির গভীর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন তারা।


ফলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করতে সচেতন ভোটারদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত, মার্জিত, সামাজিক ও পারিবারিক দিক থেকে সর্ব মহলে গ্রহনযোগ্য, জনপ্রিয়, অভিজ্ঞ এবং যোগ্যতার বিচারে উত্তীর্ণ হওয়া বাকি সাত প্রার্থীদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়ার দাবি জানানো হয়।


দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরাবর প্রদত্ত ওই যৌথ চিঠিতে সাক্ষর করেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করীম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু জাফর, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল এবং সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ১নং সহ-সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক। এর আগে তারা গত ১৮ নভেম্বর সকালে রাজধানী ঢাকায় অধ্যাপক রেজাউল করিমের বাসায় বৈঠক করেছিলেন। ‎


যৌথ স্বাক্ষরকৃত এই চিঠিতে তারা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান মনোনয়ন পাওয়ায় মানুষ হতাশ হয়েছেন। এই মনোনয়ন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তারা এই আসনে শিক্ষিত, অভিজ্ঞ এবং যোগ্য যেকোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান, যিনি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা সহ সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারবেন।


‎চিঠিতে তারা আরও বলেন, ‘এই আসনে জামায়াতের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ডঃ মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে যিনি একটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়ন যাকে দেয়া হয়েছে ৫ আগস্টের পরে তিনি সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজি, জায়গা জমি দখল, নৌ পথে সন্ত্রাস, মামলা মোকদ্দমা বাণিজ্য, অবৈধ বালুর ব্যবসা, বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মেম্বারদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করেছেন। তিনি দল ও দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন।’
‎চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ৪ দিন তিনি মেঘনা সেতুর টোল প্লাজার টোল জোরপূর্বক নিয়ে যান। সিদ্ধিরগঞ্জ থানাবাসিকে সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে বক্তৃতা দেয়ায় এলাকাবাসী তার উপর ক্ষুব্ধ। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের অপকর্ম ঢাকতে তিনি বিএনপি সারা দেশে চাঁদাবাজি করে, কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আব্বাসের লোকেরা ঢাকায় চাঁদাবাজি করে- এমন বক্তব্য দেয়। তার এই বক্তব্যের রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তার কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। ‎তার এসব কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কারণে দলীয় ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা সহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং সচেতন মহলও মনে করছেন, এমন অযোগ্য ব্যক্তিতে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন দিলে এই আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা যাবে না।’


ফলে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে বাদ দিয়ে এই সাতজনের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার আবেদন জানিয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের মধ্য থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই বাকিরা যৌথভাবে কাজ করবে।’


‎এই চিঠি সম্পর্কে আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনেক যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি দলের দিক নির্দেশনা মেনেই ধানের শীষের বিজয়ের জন্য কাজ করছি। এখন যারা আমাকে পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সাহেব কী সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাতো তিনিই ভালো জানেন। আমার নেতা হলেন তারেক রহমান। তিনি যাচাই-বাছাই করেই আমাকে প্রার্থী করেছেন। এখানে আমার কিছু বলার নেই।’

শেয়ার করুন