নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এই আসনটি জোটের প্রার্থীর কাছে বন্টন করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও আসনটিতে দলীয় প্রার্থী চেয়ে জোড়ালো আওয়াজ তুলে যাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপির সাধারণ সমর্থক ও ভোটাররাও চাইছেন ধানের শীষের দলীয় প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নিবেন বিএনপির হাইকমান্ড তা দেখতে অপেক্ষার বিকল্প নেই। তবে এরই মাঝে এই আসনে ধানের শীষের প্রতীক চেয়ে বিএনপি থেকে যারা সরব রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এক নাম মশিউর রহমান রনি। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রনির পক্ষ্যে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়ে সরব রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, আসনটিতে যদি ত্যাগ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী দেয়া হয়, তাহলে ধানের শীষ উঠবে ত্যাগী নেতা মশিউর রহমান রনির হাতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মশিউর রহমান রনি দিনরাত ভোটারদের দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা সকলের মাঝে তুলে ধরছেন। পাশাপাশি ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন পুরোদস্তর। ফতুল্লার প্রতিটি এলাকায় গিয়ে মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনে তা সংস্কার করে দিচ্ছেন নিজ উদ্যোগে। এই মানবিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ ভোটারদের মাঝে রনিকে নিয়ে উন্মাদনা দেখা গেছে। রনি সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন। ভোটাররা তার মাথায় হাত দিয়ে তাকে দোয়া ও স্নেহ করছেন। অনেকেই নিচ্ছেন বুকে টেনে। মানুষের স্নেহ ভালোবাসা পেয়ে রনিও ব্যপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ছুটে চলেছেন মানুষের মাঝে উন্নয়ন ও তাদের খেদমতের বার্তা নিয়ে।
তথ্য বলছে, ছাত্রজীবন থেকেই আপোষহীন ছিলেন মশিউর রহমান রনি। জাতীয়তাবাদী আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার। ধিরে ধিরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেন তিনি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বলিষ্ট নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে বিগত ১৬ বছর রাজপথ প্রকম্পিত করেছে নেতাকর্মীরা।
তৎকালিন প্রশাসনের প্রবল অভিযান ও ধরপাকরের মাঝেও ভীতু হননি রনি। এমনকি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের তৎকালিন প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও তার পালিত বাহিনীর হুংকারের পাল্টা হুংকারও দিতে দেখা গিয়েছিল মশিউর রহমান রনিকে।
একটা সময় ছিলো, যখন নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচিতে নিজেদের ব্যানার ধরার মত লোক পেতেন না, এমনকি গ্রেফতার এড়াতে সিনিয়র নেতাদেরও অনেকে যখন রাজপথ এড়িয়ে চলতেন, তখন জেল জুলুম ও মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়েও রনির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাহসিকতার সাথে দলীয় কর্মসূচি পালন করে গেছেন। বিনিময়ে হয়েছেন অসংখ্য মামলার আসামী, করেছেন কারাবরন। এমনকি শামীম ওসমানকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় গুমের শিকারও হতে হয়েছিল তাকে। ওই সময়ে রনির পক্ষে জোরারো অবস্থান দেখিয়েছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মশিউর রহমান রনি। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে রনির খালাতো ভাই হওয়া সত্বেও ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও আশরাফুল ইসলাম রাফেল শামীম ওসমান ও অয়ন ওসমানের নির্দেশনায় রনির উপর নানা ভাবে নির্যাতন চালিয়েছিল। প্রতিটি মামলায় প্রথম সাড়িতে ছিলো রনির নাম। রনির বাড়িতে পুলিশ ও ডিবি পাঠিয়েও তারা হয়রানী করেছে বিগত সময়ে। রাজনৈতিক কারণে রিয়াদ ও রাফেলের সাথে দূরত্ব ছিলো রনির।
আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মাঠে থেকে আসনটির সাবেক এমপি শামীম ওসমানের রোষানলে পড়তে হয়েছে রনিকে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি থাকা অবস্থায় গুম হতে হয়েছিল তাকে। দলের দুঃসময়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কর্মসূচিগুলো রনির ওপর নির্ভর করেই পালিত হত। সভা সমাবেশ ও মিছিলগুলোতে রনির নেতৃত্বে যুবদল নেতাকর্মীদের ওপর ভর করেই জনসমাগম হত।
পাঁচ আগষ্টের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভিন্ন ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেন রনি। আসন পুনর্বিন্যাসের পর আটঘাট বেঁধে নেমেছেন তিনি। ফতুল্লার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত গুসংযোগ করছেন রনি। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের চাওয়া পাওয়ার বিষয়গুলোও জেনে নিচ্ছেন তিনি।
এবিষয়ে রনি জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠন সহ দলের সাধারণ কর্মী সমর্থকরা চাইছেন এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী দেয়া হোক। তবে আমি বিশ্বাস করি যে, দলের কল্যাণে আমাদের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিবেন। তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষেই আমরা সকলে মিলে কাজ করবো। সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করবো।’
রনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান সাহেব বলেছেন যে, বিএনপি করতে হলে গুমানুষের সাথে নিজের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। নেতা হতে হলে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। মানুষই যদি ভালো না বাসে তাহলে কিসের নেতা! বিএনপি যেহেতু দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে, সেহেতু এই দলের নেতা হতে হলে দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমি আমার নেতা জনাব তারেক রহমান সাহেবের সেই নির্দেশনা মেনে এবং তার আদর্শ বুকে ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি। এটাই আমার লক্ষ্য।’





