নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভাড়া করে এনে মালবাহী জাহাজ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেনসহ ৭জনের বিরুদ্ধে।
উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে এইচবি হারুন এন্ড ব্রাদার্স মেঘনা শীপইয়ার্ডে জাহাজটি কেটে বিক্রি করেন। ৭ জনের সিন্ডিকেটটি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের আর্শিবাদপুষ্ট। বিভিন্ন সময়ে তাদের অপকর্ম করে কামানো টাকা মান্নান ও তার ছেলে যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজিবের পকেট ভারি হয়।
জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গত বুধবার সকালে নজরুল ইসলাম নামের এক বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ইসলামকে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরে অবশ্যই মান্নানের আইনজীবির মাধ্যমে ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন, বিএনপি কর্মী ইকবাল হোসেন ও গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ইসলামকে জামিনে ছাড়িয়ে আনেন। জাহাজ কেটে বিক্রির ঘটনায় জাহাজের মালিক রাকেশ শর্মা বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃত নজরুল ইসলাম নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলার চরবগুলা গ্রামের ইমানুল হকের ছেলে।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহাদাত হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। এক সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের আর্শিবাদ নিয়ে তার সঙ্গে রাজনীতি করে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খায়রুল ইসলাম সজিবের সঙ্গে মিটিং মিছিলে তাদের দেখা যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী রাকেশ শর্মা জানান, শাহাদাতের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম থেকে ডাম্ব বার্জ (ডিবি) নামের একটি জাহাজ তাদের কাছ থেকে ৭লাখ বিশ হাজার টাকায় এক মাসের চুক্তিতে কাদিরগঞ্জ এলাকায় নিয়ে আসেন। তাদের এক জাহাজটি বরিশাল এলাকায় মালপত্র বহনের কথা বলে ভাড়া করেন। পরবর্তীতে তাদের না জানিয়ে শাহাদাতের নেতৃত্বে মো. জাফর, ইকবাল হোসেন, নজরুল ইসলাম, এমদাদুল হক, জাফর মিয়া, ও হোসেন নামের সিন্ডিকেট কাদিরগঞ্জ এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে এইচবি হারুন এন্ড ব্রাদার্স মেঘনা শীপ ইয়ার্ডে জাহাজটি কেটে স্টীলের প্লেট বিক্রি করে ফেলেন। গত রোববার সকালে মোবাইল ফোনে এক পরিচিত ব্যক্তি তাদের জাহাজ কেটে ফেলার বিষয়টি জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ওইদিন রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মালবাহী জাহাজ কেটে ফেলার সত্যতা পান।
রাকেশ শর্মা আরো জানান, তাদের সঙ্গে মাসের চুক্তিতে মো. জাফর মাল টানার জন্য জাহাজটি ভাড়া করে নিয়ে আসে। কিন্তু সে বিএনপি নেতাকর্মীদের সিন্ডিকেট করে সোনারগাঁয়ের এক বিএনপি নেতার ছেলে তাদের শীপইয়ার্ডে কেটে বিক্রি করে দেয়।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেনের বাবা ও শীপইয়ার্ডের মালিক বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, জানতে পেরে জাহাজ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মালিক পক্ষের সঙ্গে সমঝতার চেষ্টা চলছে।
অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, মামলা হয়েছে। তাদের জামিনও হয়েছে। তবে মিমাংসা হয়ে যাবে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খান বলেন, মালবাহী জাহাজ কেটে বিক্রির ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জাহাজ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, কোন প্রকার রাজনৈতিক শক্তিই অপরাধীদের আড়াল করতে পারবে না। তিনজনের জামিন হয়েছে। বাকিদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।




