নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন ঘিরে সরব রয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সহ একাধিক শিল্পপতিরাও। মনোনয়ন কেন্দ্রীক এই প্রতিযোগীতায় প্রায় হাফ ডজন প্রতিদ্বন্দ্বী ঘিরে তৈরী হয়েছে পৃথক বলয়ও। আপাত দৃষ্টিতে এই বলয়গুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল। এরমধ্যে একটি পক্ষ মাঠের রাজনীতিতে ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে নিজেদের গড়ে তুললেও আরেকটি পক্ষ ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ কিংবা ‘সু-সময়ের কোকিল’ বলেও মন্তব্য করেছেন দুঃসময়ের ত্যাগী নেতারা। যারা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তবে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের ত্যাগী নেতা হিসেবে যারা দায়িত্বশীল নেতৃত্বে রয়েছেন, তাদের কেউ কেউ সেই ‘সু-সময়ের কোকিল’দের স্রোতেই গা ভাসিয়ে চলেছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর য্বুদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদও।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে মনিরুল ইসলাম সজল ও সাহেদ দুজনই মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারা আওয়ামী লীগ ও তৎকালিন প্রশাসনের দ্বারা আগ্রাসনের শিকারও হয়েছিলেন। দুঃসময়ে তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা অস্বীকার করার জো না থাকলেও বর্তমানে সেই ত্যাগ বিসর্জন দিতে চলেছেন ভোগের বাসনায়। মুখে ত্যাগের বুলি আউড়ালেও কার্যত ‘সুবিধাবাদী নব্য বিএনপি’ তথা শিল্পপতিদের ছায়ায় মিশে গেছেন। ত্যাগ করেছেন দলের দুঃসময়ের সিনিয়র নেতাদের সংঘ।
মূল দল তথা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা গেছে যুবদল নেতা সজল ও সাহেদকে। তারা দুজনই সদ্য বিএনপিতে যোগদান করা মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদের বলয়ে ভিড়েছেন।
অথচ বিএনপির পরীক্ষিত নেতারা বলছেন, মডেল মাসুদ আওয়ামী লীগের ক্যান্টনম্যান্ট খ্যাত ওসমান পরিবারের আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত এবং প্রমাণিত। সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ট ব্যক্তি মডেল মাসুদ আওয়ামী লীগের সময়কালে বিএনপির পক্ষে টু শব্দু টুকুও করেননি। উল্টো সেলিম ওসমানের পক্ষে তার নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে স্বশরীরে নেমেছিলেন। করেছিলেন সভাও। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন হলে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পরে নারায়ণগঞ্জের ওসমানীয় সাম্রাজ্য। বিএনপির সামনে দেখা দেয় সুদিনের হাতছানি। ঠিক তখনই নিজেকে বিএনপি ঘরনার বলে প্রচার শুরু করেন মডেল মাসুদ। পরবর্তিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপিতে যোগদান করার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে সরব হন তিনি।
গুঞ্জন চলছে, মডেল মাসুদ নিজস্ব বলয় তৈরী করতে দু’হাতে টাকা উড়িয়ে যাচ্ছেন। এই গুঞ্জনের মাঝেই মডেল মাসুদের বলয়ে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা গেছে মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল ও সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদকে। তারা মাসুদের পক্ষ হয়ে মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিপক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখছেন।
মডেল মাসুদকে সভাপতি করে ১৮ অক্টোবর মহানগর যুবদলের ব্যানারে যুব সমাবেশ করেন সজল ও সাহেদ। সেই সমাবেশে সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে উদ্দেশ্য করে সাহেদ আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পাঁচজন ত্যাগী নেতা ধরলে তার মধ্যে একজন আমি ও আমার আহবায়ক (সজল)। কিন্তু আমাদের দলের মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেই ভাষায় বক্তব্য রাখছেন, সেটা তাদের মুখে মানায় না। আমরা তাদের নেতৃত্বে রাজনীতি করি এবং করবো। কিন্তু তাদের কাছে এই ধরনের বক্তব্য আশা করি না। মাসুদুজ্জামান মাসুদ যুবদলের সোনালী ফসল। আমরা তাকে নারায়ণগঞ্জের আগামীদিনের রাজনীতিতে নেতৃত্ব হিসেবে দেখতে চাই। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের প্রত্যেক নেতাকর্মী আমরা তার পাশে আছি। সেটা সাংসদ হলেও আছি না হলেও আছি। ওয়াদা করছি তারেক রহমান ও দল যাকে নমিনেশন দিবেন মাসুদ ভাইকে সাথে নিয়ে তার পক্ষেই আমরা নির্বাচন করবো।’
সাহেদের দেয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। নেটিজেনরা বলছেন, সজল ও সাহেদ নিজেদের ত্যাগী নেতা হিসেবে দাবি করলেও তারা এখন ত্যাগীদের সংঘ ছেড়েছেন। ভোগীদের ন্যায় ওসমান ঘনিষ্ঠ নব্য বিএনপি নেতার পাশে ভিড়েছেন। তবে কী সজল-সাহেদও টাকার কাছে ত্যাগ বিক্রি করলেন? এমন প্রশ্ন ও সমালোচনা চলছে সচেতন মহলে।





