বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান কে.এম আবু হানিফ হৃদয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তার দলীয় প্রতিক হাতি মার্কা নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন তিনি। আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য ইতিমধ্যেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাতি প্রতিক নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন আড়াইহাজারের এক প্রাপ্ত থেকে আরেক প্রান্তর। ভোটারদের কাছে দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। এতে সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান কে.এম আবু হানিফ হৃদয় একাধারে একজন রাজনীতিবীদ, ব্যবসায়ী, সংগঠক, সাংবাদিক এবং কথা সাহিত্যিক। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে তাকে বারংবার নির্যাতিত হতে হয়েছিল।
তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা ১% সমর্থন যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীতা বাতিলের অনুতাপ থেকে রাজনৈতিক দল গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারপর তিনি ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি দিয়ে দল গঠন করেন। ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনের পূর্বে নিবন্ধনের আবেদন করলে কমিশন তা খারিজ করেদেন। খারিজের বিরুদ্ধে কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের ভেকেশন কোর্টে রীট দাখিল করেন। বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও কে.এম হাফিজুর রহমানের আদালত বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টিকে কেন নিবন্ধন দেয়া হবে না এইমর্মে কমিশনের বিরুদ্ধে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন। পরবর্তীতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বিচারপতি আশরাফুল ইসলাম কোর্টে শুনানীর অপক্ষামান থাকাকালীন ৬জন আইনজীবি নিয়োগের মধ্যে প্রধান আইনজীবি মৃত্যুবরণ করেন।
আদালতে রীট চলাকালীন একাদশ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদেন। আবারো ১% সমর্থন যাচাই-বাছাইয়ে কমিশন দু’টি মনোনয়নপত্রই বাতিল করেন। ২০২৪ সালে দ্বাদশ নির্বাচনে জোটগতভাবে ঢাকা-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও ভোট গ্রহণের ৩দিন পূর্বে ফ্যাসিস্টদের নীল নকশার নির্বাচন বুঝতে পেরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন প্রত্যাখান করেন। সংবাদ সম্মেলনের পর তিনি দীর্ঘ ছয় মাস আত্মগোপনে ছিলেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি আত্মগোপন থেকে সক্রিয় হোন। শহিদ আবু সাঈদের দাফনের দ্বিতীয় দিন ১৯ জুলাই, ২০২৪ রংপুরে শহিদ পরিবারকে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ শুরু করেন। শহিদ পরিবারকে অনুদান দেয়ায় ২৩ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সাইনবোর্ডে তার পত্রিকা অফিস ভাংচুরর করে ১৮ লাখ টাকার ক্যামেরা ও ল্যাপটপ ফ্যাসিস্টরা নিয়ে যান। পরবর্তীতে সাইনবোর্ডে ফ্যাসিস্ট বিরোধী ক্যাম্প গঠন করেন, এবং প্রতিটা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, সাইনবোর্ড-শনিরআখড়া-যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্রদের রাজপথে থাকার জন্য খাবার, পানি ও অর্থ সহযোগিতা করেন। ৫ আগস্ট স্ব-পরিবারে কারফিউ ভেঙ্গে সবার আগে শাহবাগ উপস্থিত হয়ে ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। তিনি ভিপি নুরুল হক নুর গ্রেফতারের পর থেকে তার বাসায় গিয়ে পরিবারের খোঁজ খরর নেন এবং নেতাকর্মীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও চিকিৎসা-খাদ্য সহযোগিতায় পাশে থাকেন। ৬ আগস্ট, ২০২৪ ভিপি নুরুল হক নুরকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ফুলের মালা পরিয়ে নিজের গাড়ি দিয়ে বাসায় পৌছিয়ে দেন।
তিনি ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রামে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ৩ বার গ্রেফতার হন, ডিবি অফিসে দুইদফা নির্যাতনের স্বীকার হন। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের তৎকালীন এসপি হারুনের গুম, খুন, হুমকির রোষানলে পরে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জমি হারান। ২০১৩ সালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ইস্যুতে যাত্রাবাড়ী থানায় ২১ ঘন্টা নির্যাতিত হন। ২০১৪ সালে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি অবনী শংকর নিজ কলেজ থেকে গ্রেফতার করে যাত্রাবাড়ী থানায় ১দিন আটকিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এত অন্যায়, অত্যাচারের পরেও ধৈয্য ধরেছেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন নিয়ে কাজ করেন। দলমত যার যার নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি সবার এই স্লোগানে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি সবার কাছে বিশ্বস্থ ও স্নেহভাজন ছিলেন। দৈনিক বাংলার চোখ পত্রিকার সম্পাদক এবং পরিবেশ, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিয়েও তিনি কাজ করছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি দেশের ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভোটাধিকার হরণ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদক, ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সোচ্ছার থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।




