সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে নজর কাড়লেন রনি, আনন্দ মিছিলে উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহন ও তা বাস্তবায়ন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। দীর্ঘ ১৭ বছর যেই নেতার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনেছেন, সেই নেতার আগমনে তাকে স্বাগত জানাতে যেন মুখিয়ে আছেন আলোচিত এই যুবদল নেতা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে গত বুধবার দিন-রাত একাকার করে ছুটে বেড়িয়েছেন রূপগঞ্জের ৩০০ ফিট এলাকার ঐতিহাসিক সমাবেশস্থলে। সাধ্যমত করেছেন সমাবেশ মঞ্চের নানা তদারকিও। সেই সাথে নিজ খরচে বিশাল গাড়ী বহরে করে তার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল ও শ্রমিকদল সহ অন্যান্য অঙ্গ-সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীদের ৩০০ ফিটে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের খাবারের ব্যবস্থাও করেছেন কর্মীবান্ধব হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করা এই উদীয়মান নেতা।


সকাল থেকে তার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ৩০০ ফিট এলাকায় একত্রিত হন এবং তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অবস্থান নেন। একই সাথে প্রিয় নেতার আগমনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রনির নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করেন আগত নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা। এসময় মশিউর রহমান রনি নিজেই তারেক রহমানকে স্বাগতম জানিয়ে নানা স্লোগাণ ধরেন। স্লোগাণে স্লোগাণে মুখরিত হয় ৩০০ ফিট এলাকা। নেতাকর্মীদের হাতে শোভাপায় তারেক রহমানের নানা ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। এসময় তিনি সহ মিছিলে অংশ নেয়া সকল নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের ঢেউ পরিলক্ষিত হয়। রনির নেতৃত্বাধীন এই মিছিল ও ব্যাপক লোক সমাগমের বিষয়টি ৩০০ ফিটে অপেক্ষমান সকলের নজরকাড়ে।


জানা গেছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই নানা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন মশিউর রহমান রনি। তিনি তার আগমনী দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার মত উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে ইতিপূর্বেই বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে আসছিলেন। এবার প্রাথমিক পরিসরে সেই কথারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার সাথে অংশগ্রহণ করা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দরা।


এই বিষয়ে মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান সাহেবের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। রাষ্ট্র সংস্কার ও পরিচালনায় এই মুহুর্তে তার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি দ্বিতীয় কেউ নেই। তাকে স্বৈরাচারি আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিত ভাবে দীর্ঘ ১৭ বছর এই দেশের মাটিতে আসতে দেয়নি। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন হলেন উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা বিগত দিনে যেভাবে বলে ছিলাম যে, তিনি এই দেশের হাল ধরতে একদিন বীরের বেশে ফিরবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি আজ বীরের বেশেই তার জন্মভূমিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। এই মুহুর্তটা কেবল আমাদের জন্যই নয় বরং গোটা দেশের সর্বস্তরের কল্যাণকামী মানুষের জন্য বিশেষ কিছু। আমি আমাদের নেতাকে বরন করে নিতে আমাদের নারায়ণগঞ্জের বিএনপি, যুবদল ও অন্যান্য অংগ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশাল গাড়ী বহরের মাধ্যমে ৩০০ ফিটে এসে অবস্থান করছি। আমার মত আজ নেতাকর্মীরাও আনন্দিত। সকলকে নিয়ে আনন্দ মিছিল ও আমাদের নেতার সম্মানে স্লোগাণ ধরেছি। নেতাকর্মীদের নিয়ে সু-শৃঙ্খলভাবে জনাব তারেক রহমানের আগমনের জন্য অপেক্ষায় আছি। আজকে এখানে যেই লোকে লোকারণ্য হয়েছে, তা বিএনপি এবং তারেক রহমানের জনপ্রিয়তারই বর্হিপ্রকাশ। আজ এখানে যেই ইতিহাস রচিত হচ্ছে, আমরা সেই ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এরজন্য মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মন থেকে শুকরিয়া জানাই। আসলে আমরা যেই নেতার এক নির্দেশনায় বিগত ১৭টি বছর রাজপথে নির্দিধায় লড়ে গেছি, যেই নেতার এক নির্দেশনায় গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের জন্য রাজপথে নিজের রক্ত ঝরিয়েছি, জেল খেটেছি, গুমের শিকার হয়েছি, মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর হয়রানী হয়েছি, জীবন ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে স্বৈরাচারের গুলির মুখেও আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছি, আজ সেই নেতা আমাদের মাঝে ফিরে আসছেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত না। গোটা দেশের মানুষ তার অপেক্ষায় ছিলো, আজ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তাই তাকে স্বাগত জানাতে আমাদের পাশাপাশি এদেশের সাধারন মানুষও তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় রাস্তায় অবস্থান করছেন। তাকে দেখার জন্য ছুটে এসেছেন। আজ যেই সমাগম হয়েছে, উপস্থিতির দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।’

শেয়ার করুন