সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

ধানের শীষ জেতাতে মাঠে সরব সাখাওয়াত!

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম দাবিদার ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। শিল্পপতি মাসুদুজ্জামানের নাটকীয় ঘটনার পর আসনটিতে মনোনিত প্রার্থী হিসেবে তাকে বেছেও নিয়েছিল নীতিনির্ধারকরা; প্রস্তুতি নেয়ার কথা জানিয়ে ডাকা হয়েছিল গুলশান কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ সেমিনারেও। যুক্ত করা হয়েছিল মনোনিত প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। তবে পূনরায় নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে ‘শেষ রাতে’ পাল্টে যায় সিদ্ধান্ত; প্রার্থী করা হয় সাবেক এমপি আবুল কালামকে। কেন্দ্রের এমন হঠকারীতা, স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত ও নাটকীয়তার দরুণ সমালোচনার ঝড় উঠেছিলো তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের মাঝে। তবে এ নিয়ে ‘টু’ শব্দটুকুও করতে দেখা যায়নি সাখাওয়াত হোসেন খানকে।


তৃণমূল কর্মীরা বলছেন, দলের হাইকমান্ড তারেক রহমানের যেকোনো সিদ্ধান্তই শিরোধার্য; এমন কথা কেবল মুখেই নয় বরং হৃদয়েও যে ধারণ করেন সাখাওয়াত হোসেন খান- সেই অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন আরও একবার। মৌখিক ভাবে মনোনিত হওয়ার পর শেষ মুহুর্তে বঞ্চিত হলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে সেই পাহাড়সম ত্যাগ শিকার করে গেছেন নিরবে। তাই তো শেষ বেলায় এসে ধানের শীষের প্রতীক বাগিয়ে নেয়া সাবেক এমপি আবুল কালামের পাশে রয়েছেন শুরু থেকেই। অভিমান বা সংকোচ না রেখে দলীয় প্রতিক ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে রাজপথে সরব রয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান।


মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, সাখাওয়াত হোসেন খান মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর ধারনা করা হয়েছিল, তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে অভিমান পুষে রাখবেন। তবে তিনি ধৈর্যের মাধ্যমে মহানুভবতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, ত্যাগী নেতা হিসেবে আরও একবার সাক্ষর রেখেছেন। দলের সিদ্ধান্তের কাছে নিজের আকাঙ্খাকে বলি দিয়েছেন। শিষ্ঠাচার বহির্ভূত কোনো আওয়াজ তোলেননি, করেননি কাঙ্খিত প্রতিবাদও।


সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া সাবেক এমপি আবুল কালামের পাশে থেকে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। সদর-বন্দরে অনুুষ্ঠিত হওয়া দলীয় প্রার্থী আবুল কালামের বিভিন্ন সভা-সেমিনার গুলোতে স্ব-শরীরে অংশ গ্রহণ করছেন। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বক্তব্য রাখছেন। এতে সাখাওয়াত অনুসারী বিএনপি নেতাকর্মী এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরী হওয়া সাধারণ ভোটাররাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ফলে আবুল কালাম বিগত দিনে বিএনপির রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় না থাকলেও ভোটের মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পরছে না।


বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাখাওয়াত হোসেন খান ধানের শীষের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়ায় দলীয় প্রার্থী আবুল কালামের পথ আরও সুগম হয়ে উঠেছে। সাখাওয়াত হোসেন খান দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে একজন আস্থাশীল অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের কাছে একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবীদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ফলে তিনি ধানের শীষের পক্ষে সরব হওয়ায় দলীয় প্রার্থী আবুল কালামের জন্য তা আশির্বাদ স্বরুপ। যা ভোটের মাঠে তাকে আরও বেশি এগিয়ে রাখছে বলে মনে করেন বোদ্ধা মহল।

শেয়ার করুন