সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

টেস্ট বাণিজ্যের লাগাম কষবে কে?

বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার ফি নির্ধারিত না থাকায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন সেবা গ্রাহকরা। ইচ্ছে মত ফি আদায় করায় এমন বিভ্রান্ত বা বিপত্তিতে পড়ছেন রোগি ও তার স্বজনরা।

নগরীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ভেদে একই পরীক্ষার পৃথক মূল্য তালিকা।

শুধু কী তাই? চিকিৎসকদের ফি নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। কোন্ পদমর্যাদার চিকিৎসক কত টাকা ফি নিতে পারবেন তা নির্ধারিত না থাকায় মনগড়া ভিজিট নিচ্ছে অখ্যাত চিকিৎসকরাও।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু সংখ্যক অসাধু চিকিৎসকদের সঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অদৃশ্য চুক্তি রয়েছে। রোগীপ্রতি ওই অসাধু চিকিৎসকদের কমিশন দেয় তারা। কমিশনের বাসনায় প্রয়োজন না থাকলেও প্রেসক্রিপশনে ধরিয়ে দেওয়া হয় অসংখ্য টেস্ট। নির্দেশ দেয়া হয় চিকিৎসকের পছন্দমত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর জন্য। বিপুল অঙ্কের টাকার টেস্ট করাতে গলদঘর্ম হয়ে থাকে রোগী ও তার স্বজনদের। এসব টেস্টে কোনো সমস্যা না পাওয়া গেলেও অন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ফের একই টেস্ট ধরিয়ে দেওয়া হয় ভিন্ন কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। কিন্তু আগের করা রিপোর্ট নতুন চিকিৎসকের কাছে স্বীকৃতি মেলে না। তার পছন্দমতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পুনরায় একই পরীক্ষা করাতে পরামর্শ দেয়া হয়। এতে একই রোগ বা রোগ নির্ণয়ে ব্যায় হচ্ছে দ্বিগুণ অর্থ।

জানা গেছে, কোন্ টেস্টের কত টাকা ফি, স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে তা নির্ধারণ না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। এই বিষয়ে নীতিমালা তৈরীর কথা থাকলেও দীর্ঘদিনেও তা হচ্ছে না।

নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, ব্রেইন এমআরআই পরীক্ষার জন্য সেখানে নেয়া হচ্ছে প্রায় হাজার টাকা, এমআরআই অব হোল এবডোমেইন এর জন্য নেয়া হচ্ছে ১৫ হাজার কিংবা তারও বেশি। সিটি স্ক্যান অব হোল এবডোমেইন এর জন্য নেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকার বেশি অর্থ।

অন্যদিকে চাষাঢ়ায় অবস্থিত ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই ধরনের পরীক্ষার ফি ১ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি। সেখানে দেখা যায়, এমআরআই অব হোল এবডোমেইন এর জন্য নেয়া হচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার টাকা এবং সিটি স্কেন অবহোল এবডোমেইন এর জন্য নেয়া হচ্ছে ১২ হাজার টাকারও বেশি অর্থ।

তাছাড়া, ব্রেইন এমআরআই পরীক্ষার জন্য নেয়া হচ্ছে ৮ হাজার ৫শত টাকা। অথচ, দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেশিনারিজ একই মানের। এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একই পরীক্ষার জন্য রাখা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন ফি।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিস লিমিটেডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া একজন বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা বেসরকারী হাসপাতালের ফি নিয়ে সরকারের কোন নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই তা ঠিক। তবে, সরকার বা স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় যদি নীতিমালা করে তাহলে অবশ্যই আমরা সেই নীতিমালার উপর হাসপাতাল পরিচালনা করবো।’

তিনি জানান, একেক হাসপাতালে একেক ফি এর কারণ ৪টি। এগুলো হলো হাসপাতালের ব্র্যান্ড, সার্ভিস, মেশিনারিজ ও রি-এজেন্ট। এই চার কারণে ফি বৃদ্ধি পায়। আমাদের এখানে সার্ভিস ভালো, ডেকোরেশন ভালো, উন্নতমানের মেশিনারিজ, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সহকারী চিকিৎসক। সেই হিসেবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় চার্জও বেশি।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্যখাতের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইনসাইট নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘টেস্ট ফি নির্ধারনে কোন নীতিমালা হয়নি। তাই এটা অনেকটা ‘বড় উকিলের কাছে গেলে বড় পয়সা, ছোট উকিলের কাছে গেলে ছোট পয়সা’ এমন সিস্টেমেই চলছে। এটা তারা ব্যবসা করার জন্য করছে। সরকার যতক্ষন পর্যন্ত নীতিমালা না করছে, ততক্ষন পর্যন্ত এটা চলবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় যখন নীতিমালা করবে, তখন এটা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করবো।’

তবে, কবে নাগাদ এই নীতিমালা প্রণয়ন হবে, সেই প্রশ্নই সাধারণ মানুষের।

শেয়ার করুন