হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী। ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে যার দৃঢ় অবস্থান ছিলো চোখে পড়ার মত। আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগি সংগঠন ওলামা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। তৎকালিন সময়ে দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জসহ সর্বত্রই ছিলো তার অবাধ বিচরণ। এমনকি সরকারী খাস জমি দখল করে মার্কেট নির্মান সহ ভূমিদস্যুতা ও নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিলেন তিনি। বিতর্কিত এই ওলামা লীগ নেতা গণঅভুত্থানের বিরুদ্ধে নিয়েছিলেন কঠোর অবস্থান। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে রয়েছে একাধিক মামলাও। আওয়ামী লীগ তথা ওলামা লীগের সেই বিতর্কিত ব্যক্তিটিই এখন রয়েছেন বিএনপির ছায়াতলে! রাতারাতি ভোল পাল্টে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ্যে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন পুরোদস্তর। এতে বিএনপির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে তুমুল সমালোচনা।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সোনারগাঁ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা আজাহারুল ইসলাম মান্নানের হয়ে নির্বাচনি মাঠে সরব রয়েছেন বহুল সমালোচিত ওলামা লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী। বিনিময়ে এই আওয়ামী দোসরকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ভাবে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম মান্নান। ব্যক্তি স্বার্থ ও ভোটের মাঠের দুরভিসন্ধি নিয়ে একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠলেও এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে বিএনপি সহ গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সচেতন মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আজহারুল ইসলাম মান্নান বিএনপির প্রকৃত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে উল্টো আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠিত করতে প্রকাশ্যেই ভূমিকা রাখছে। যা গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও স্প্রিটের পরিপন্থি। হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন ওলামা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত এবং হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। এমনকি কাঁচপুরে অবস্থিত তার কার্যালয়ে এখনো আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কার তোরণ ঝুলে আছে। আওয়ামী লীগের সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে পুরোদস্তর শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। এতে সাধারণ মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চলছে নানা সমালোচনা।
এই বিষয়ে জানতে গতকাল নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা পোষন করে ইনসাইড নারায়ণগঞ্জকে জানান, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের মামলায় যারা আসামী রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই নজরদারিতে আছে। তাদেরকে অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী ওলামা লীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে বিগত সময়ে জমি দখল থেকে শুরু করে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দরুণ খবরের পাতায় উঠে এসেছিলো তার নাম। এর মধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সদর উপজেলার ভূইঘর-সাইনর্বোড এর মধ্যবর্তী এলাকায় সরকারী খাসজমি দখল করে তার ছেলে নামে নামকরণ করে প্রিয়ম কাচঁপুরী জামে মসজিদ ও প্রিয়ম কেএমএস টাওয়ার নামে একটি ভবন নির্মাণ করে তুমুল সমালোচনায় এসেছিলেন।




