নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারী হিসেবে পরিচিত এই নেতা হাটলে মিছিল আর বসলে যেন তা সভায় পরিণত হচ্ছে। বিএনপির প্রকৃত ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাকর্মীরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে আকড়ে ধরে আছেন। তারা সাখাওয়াত হোসেনকে এমপি হিসেবে দেখতে চেয়ে রাজপথে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতৃত্বগুণে অনন্য এবং ক্লিন ইমেজের হওয়ায় নেতাকর্মীরা সাখাওয়াত হোসেনকে ভালোবাসেন বলে জানিয়েছেন। সাখাওয়াত হোসেন খানও একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবীদদের ন্যায় সব সামলে যাচ্ছেন একাধারে।
বর্তমানে বিএনপিতে সুদিনের হাতছানি দেখে কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের আলোচনায় আনলেও তাদের চোখে চোখ রেখে তিনি কথা বলছেন। দৃঢ় কণ্ঠে বক্তব্য রাখছেন তাদের কৃতকলাপ নিয়ে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কিংবা আইন-আদালত অঙ্গণে এক আলোচিত নাম অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। মহানগর বিএনপির গতিশীল রাজনীতিতে যিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন পুরোদস্তর। অধিনস্থ ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। একটি পক্ষ মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি কিংবা সাখাওয়াতের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি শুরু থেকেই। নানা প্রচেষ্টা চালিয়েও তারা সাখাওয়াত হোসেন খানকে মাইনাসে ব্যর্থ হয়েছেন। মূলত, সাখাওয়াত হোসেনের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সক্রিয়তার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তো বটেই, খোদ তারেক রহমানের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিরোধী পক্ষটি ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিএনপি অঙ্গণে প্রচলিত আছে।
রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, আইন-আদালত কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গণ; উভয় ক্ষেত্রেই সাখাওয়াত হোসেন খান নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির বেশ কিছু নেতা যেখানে নানা কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন, সেখানে সাখাওয়াত হোসেন খান ছিলেন ভিন্ন। আগামীতে দলীয় মনোনয়ন কিংবা কেন্দ্রের নীতি নির্ধারকদের অনুকম্পা আদায়ে সাখাওয়াত হোসেন খানের এই রাজনৈতিক ক্লিন ইমেজ প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পূর্বে সাবেক কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় প্রায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে শুরু থেকেই। আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজপথে যখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকেই পাওয়া যায়নি, ঠিক তখনও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান একাই রাজপথ সরব রেখেছিলেন তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেই তার পিছুটান লক্ষ্য করা যায়নি। একাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির হাল ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
আইন অঙ্গণে প্রতিবাদী হিসেবে খ্যাতি পাওয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রবল চাপের মুখে পড়েও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন হত্যাকাণ্ডে বাদি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। ওই সময়ের ক্ষমতাসীনদের চোখ রাঙানির পরও দমে যাননি তিনি। সাতখুন মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দেশ-বিদেশে আলোচনায় থাকা সাখাওয়াত হোসেনের উপর দলের নীতি-নির্ধারকরাও আস্থা রেখেছেন বারংবার। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করেছেন তিনি। তবে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়লাভ করলেও ওই নির্বাচনে বিতর্ক ছিলো বিভিন্ন অঙ্গণে।
ফলে সাখাওয়াতের প্রতি আস্থা হারায়নি বিএনপির হাইকমান্ড। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে সাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হলে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও চ্যালেঞ্জের মুখেও এতে সফল হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন। সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সাথে নিয়ে মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটি করেছেন তিনি। এরপরও একটি মহল সাখাওয়াতকে মাইনাস তথা মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ভাঙ্গার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এতে সফল হয়নি ওই পক্ষটি।
সূত্র জানিয়েছে, সাখাওয়াত হোসেন খান শুরু থেকেই রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেলেও ওই সময়ে তার বিরোধী পক্ষটি ছিলেন রাজপথের বাহিরে। এমনকি কারো কারো বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগও রয়েছে। এরপরও বর্তমানে বিএনপির সুদিন দেখে ওই আঁতাতকারী পক্ষটি মহানগর বিএনপির কমিটি যেমন হস্তগত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত, তেমনই আগামী দিনের নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিতেও সরব হওয়ার চেষ্টায় আছেন। যদিও আঁতাতকারী ও দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৩১ দফা শীর্ষক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যের পর সাখাওয়াত বিরোধী বলয়ে হতাশা বিরাজ করছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।





