সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

গুডবুকে রাজীব, জোট না হলেই সম্ভাবনা

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে অন্যতম একটি ভাবা হয় চার আসনকে। এই আসনের নির্বাচনি অঞ্চল ফতুল্লার গুরুত্ব রয়েছে নানা কারণেই। গুরুত্বপূর্ন এই আসনটি কী জোটের কাছেই বন্টন করবে বিএনপি? তা নিয়ে যুক্তি-তর্ক চলছে প্রতিনিয়তই। বাতাসে উড়ছে নানা গুঞ্জনও। ২০১৮ সালের নির্বাচনের তৎকালিন প্রেক্ষপটে আসনটিতে জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে সমর্থন করায় সেই গুঞ্জন এবার অনেকের কাছেই বেশ ভারিও বটে! তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সাল বিবেচনায় বর্তমান প্রেক্ষাটপে পরিবর্তন আসায় এবারের নির্বাচনে পুরনো সেই ছক কষবে না বিএনপির হাইকমান্ড। কেননা, গুরুত্বপূর্ন এই আসনটি জোটের হাতে তুলে দেয়া হবে বড্ড ‘কাঁচা’ কাজ।


তাই প্রশ্ন উঠেছে, ‘কাঁচা কাজে’ পা না বাড়ালে আসনটিতে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠিক কাকে বেছে নিবে বিএনপির হাইকমান্ড? তালিকায় প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যাটাও যে বেশ দীর্ঘ। তবে ইতিমধ্যেই হেভীওয়েট সব নাম ছাপিয়ে আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব। প্রবল সম্ভাবনাময়ী এই তরুণ নেতা রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুডবুকে। স্থানীয় রাজনৈতিক নানা সমীকরণও রয়েছে রাজীবের অনুকূলে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা তথা ক্লিন ইমেজের হওয়ায় ফতুল্লার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে রাজীবকে নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অধিনস্থ ফতুল্লার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডসহ পাড়া মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন মাশুকুল ইসলাম রাজীব। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার বার্তা পৌছে দিচ্ছেন সকলের মাঝে। ব্যাপক পরিসরে চালাচ্ছেন ধানের শীষের প্রচারণা। এসকল প্রচারণা ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের ঢল নামছে নিত্যদিন। ভোটারদের ফুলের ভালোসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। জ্ঞ্যানগর্ভ বক্তব্য ও মার্জিত ভাষায় আকর্ষিত করছেন সাধারণ ভোটারদের।


জানা গেছে, ছাত্রদলের রাজনীতি ও নেতৃত্ব দেয়ার সময়কাল থেকেই নিজেকে পৃথক ভাবে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন সময়ের আলোচিত এই বিএনপি নেতা। ভিপি রাজীব হিসেবে অধিক পরিচিত এই নেতাকে রাজপথের পরীক্ষিত হিসেবে স্বীকার করেন তার বিরোধী বলয়ের লোকেরাও। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে রাজীব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করেছেন। বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে আসার পর রাজীব কেবল ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ কিংবা মহানগর বন্দরই নয় বরং তার বিচরণ রয়েছে সেই সোনারগাঁ কিংবা রূপগঞ্জ আড়াইহাজারেও। নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে রাজীবের ব্যাপক কর্মী সমর্থক রয়েছে। রয়েছে জনপ্রিয়তা এবং জনসম্পৃক্ততাও। ফলে সম্ভাবনাময়ী এই উদীয়মান তরুণ নেতাকে নিয়ে সর্বত্রই আলোচনা চলছে।


বিশ্লেষকদের মতে, মাশুকুল ইসলাম রাজীব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ছন্দে আছেন। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডগুলোতে মধ্যমনি হয়ে থাকছেন। অনেকে ক্ষেত্রে প্রধান অতিথির চেয়ারও থাকছে রাজীবের বরাদ্দে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সদর, সিদ্ধিরগঞ্জ বন্দরেও নিজস্ব বলয়, কর্মী বাহিনী, সমর্থক ও প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে উঠেছে তার। তাই আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের খেলায় অন্যমত ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন এই উদীয়মান নেতা।


জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিগত কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন মাশুকুল ইসলাম রাজীব। এই পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রূপগঞ্জের গোলাম ফারুক খোকন। প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও সেদিন ত্যাগ শিকার করে গোলাম ফারুক খোকনকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন; দলে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে শেষ সময়ে এসে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। দলের প্রশ্নে রাজীবের সেই ত্যাগ নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেছিলেন ভিডিও করে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি তার বক্তব্যে সেদিন রাজীবের এই ত্যাগকে সকলের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তাকে প্রসংশায় ভাসিয়েছিলেন। এছাড়াও নানা কারণে রাজীবের প্রতি সুদৃষ্টি রয়েছে তারেক রহমানের; রাজীব আছেন তার গুডবুকের তালিকাতেও। ফলে শেষ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক হলে এই আসনে ধানের শীষ উঠতে পারে রাজীবের হাতে। এমনটা বলছেন বিএনপির প্রবীন নেতারা।


এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থীতার তালিকায় একাধিক হাই প্রোফাইল নাম থাকলেও অভ্যন্তরীন সমীকরণগুলো তাদের পক্ষে নেই। এক বিশ্লেষনে দেখা গেছে, সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থীতার আওয়াজ তুললেও তিনি মূলত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের দিকেই নজর রেখেছেন। কেননা, তার নিজ এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জ পড়েছে তিন আসনের অধিনে। ফলে সিদ্ধিরগঞ্জের পাশাপাশি সোনারগাঁওয়ে তথা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের অধিনস্থ এলাকাগুলো চষে বেড়াচ্ছেন গিয়াস।


একই অবস্থা জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদেরও। তিনি ৩ ও ৪; দুটি আসন নিয়ে কথা বললেও সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ফোকাস দিয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জে গণসংযোগ করছেন বেশি।


অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে অন্যতম এক নাম হয়ে উঠেছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবকে সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী। একটি মামলার কারণে তাকে বহিস্কার করা হলেও সেই মামলার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে আছে। এরই মাঝে গুঞ্জন চলছে, তার বহিস্কারাদেশ তুলে নেয়া হতে পারে। যদি তা নির্বাচনের আগে না হয়ে থাকে, তাহলে প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও ধানের শীষের প্রতীক পাওয়ার মত রাস্তা খোলা থাকছে না তার জন্য।


এদিকে, আর্থিক দিক থেকে সামর্থবান বিবেচনায় অনেকের কাছে বড় নাম হয়ে উঠা শিল্পপতি শাহ-আলম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তিনি ধোপে টিকবে না বলে গুঞ্জন রয়েছে। কেননা, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাকে প্রার্থীতার চিঠি দেয়া হলেও শামীম ওসমানের সাথে আঁতাত করে তিনি নির্বাচন তো দূরের কথা বিএনপির সকল পর্যায়ের রাজনীতি থেকেই ইস্তফা দিয়েছিলেন। দুঃসময়ে সরে দাঁড়ানোয় শাহ-আলম তার পূর্বের অবস্থান হারিয়েছেন তারেক রহমানের কাছে। ফলে তাকে নিয়ে আগ্রহ নেই নেতাকর্মীদেরও। শাহ-আলম নিজেও অনেকটা চুপসে গেছেন।


অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি নিজের প্রত্যাশার জানান দিয়ে নানা ভাবে আলোচনা তুললেও অবস্থান বিবেচনায় তিনি এখনো পরিপক্ক নন বলে কথিত আছে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মাঝে।
ফলে জোটের সমীকরণে না ফেললে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রতীক উঠতে পারে রাজীবের কাঁধেই।

শেয়ার করুন