সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

ফতুল্লায় কাসেমী ইস্যুতে হাতাহাতিতে জড়ালেন বিএনপির দুই নেতা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির ঐক্যজোটের সম্ভাব্য প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাশেমী ইস্যুতে বিএনপির দুই নেতার মাঝে বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।


মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ইসদাইর বাজার রেললাইন এলাকায় ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন ও বিএনপি নেতা আহমেদ গাজী মুসার মাঝে এই বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহমেদ গাজী মুসা নারায়ণগঞ্জ সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য, ফতুল্লা ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা উভয়েই বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।


ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত মনির হোসেন কাসেমীর মহা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। কেন্দ্রীয় এই হাইপ্রোফাইল নেতার আগমন ঘিরে কাশেমীর ওই সম্মেলনে সেদিন উপস্থিত হয়েছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।


এর মধ্যে মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত মাসুদুজ্জামান মাসুদ, বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি সহ স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা সেদিন উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতার আগমন ঘিরে এরই ধারাবাহিকতায় কাশেমীর সেই সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আহমেদ গাজী মুসা। এতেই তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।


এর জেরে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ইসদাইর বাজার রেললাইন এলাকায় আহমেদ গাজী মুসাকে দেখতে পেয়ে তাকে কাশেমীর দালাল বলে কটূক্তি করেন আলমগীর।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, আহমেদ গাজী মুসা তাকে দালাল বলার কারণ জানতে চাইলে তিনি কাশেমীর সম্মেলনে কেন গিয়েছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

প্রতি উত্তরে আহমেদ গাজী মুসা আলমগীরকে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন সাহেব ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন। এতে তার সম্মানার্থে সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি সহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এখানে আমি যাওয়াতে আমাকে কাশেমীর দালাল বলা মনে তো বিএনপির প্রত্যেককেই কাশেমীর দালাল বলার সামিল হয়ে গেলো। দায়িত্বশীল পদে থেকে আপনি এই মন্তব্য করতে পারেন না।


উপস্থিত ব্যক্তিদের সূত্র বলছে, এ কথা বলার পরই আহমেদ গাজী মুসার প্রতি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন আলমগীর। তিনি তার সাথে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পরার এক পর্যায়ে তাকে মারধর করার জন্য উদ্বত হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গরা আলমগীরকে নিবৃত করলেও তিনি মুসাকে উদ্দেশ্য করে অশালিন ভাষা প্রয়োগ করেন।


এতে আলমগীরকে নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের মাঝে নেতিবাচক মনোভাব তৈরী হয়। দেখা দেয় বিরুপ প্রতিক্রিয়া।

অনেককেই বলতে শোনা যায়, নিজ দলের নেতার সাথে যিনি এমন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রকাশ্যেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েন, তার দ্বারা সাধারণ মানুষ তো মোটেও নিরাপদ নয়। আলমগীরের এই আস্ফালনের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপও কামনা করেন উপস্থিত ব্যক্তিবর্গরা।


এ ব্যাপারে আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘মুসা আমার ৬নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা ও আমার ভাই। তার সাথে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।’


উল্লেখ্য, নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে এমন বিরুপ আচরণ করার আরো একাধিক অভিযোগ রয়েছে আলমগীরের বিরুদ্ধে। তিনি ইতিপূর্বে বাসের কন্ট্রাক্টর ও হেলপাড়ও ছিলেন। সেখান থেকে রাজনীতিতে উঠে এসে দলের গুরুত্বপূর্ন পদ বাগিয়ে নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

শেয়ার করুন