সর্বশেষ
আপনারা দেখছেন Insight Narayanganj-এর Beta Version

সাখাওয়াতের শক্তি ‘ক্লিন ইমেজ’

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কিংবা আইন-আদালত অঙ্গণে এক আলোচিত নাম অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। মহানগর বিএনপির গতিশীল রাজনীতিতে যিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন পুরোদস্তর। অধিনস্থ ২৭টি ওয়ার্ড কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখা এই নেতা তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছেন। দলের দুঃসময়ে স্বশরীরে মাঠের আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তাও করে গেছেন একাধারে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আদালত পাড়ায় আলোচিত এই আইনজীবী ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের এক বিশ্বস্ত অভিভাবক। যিনি আওয়ামীপন্থীদের রক্তচক্ষু ও সকল বিপত্তি উপেক্ষা করে আদালতপাড়ায় লড়ে গেছেন দলের সর্বস্তরের কর্মীদের হয়ে। ফলে সাখাওয়াত হোসেন খানকে ঘিরে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সর্ববৃহৎ বলয় তৈরী হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি অঙ্গণে।


সাখাওয়াত অনুসারীরা বলছেন, লোভ-লালসার ফাঁদে কখনো পা না দেয়ায় বিতর্ক স্পর্শ করেনি এই বিএনপি নেতাকে। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির কতিপয় নেতা যেখানে দখল-দারিত্বে মেতে ছিলেন, সেখানে সাখাওয়াত হোসেন খানকে ব্যস্ত দেখা গেছে ভিন্ন চিত্রে। ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিষ্ক্রীয় হয়ে পড়লে সাখাওয়াত হোসেন খান নেতকর্মীদের নিয়ে মানুষের জান-মাল রক্ষায় শহর-বন্দর চষে বেড়িয়ে ছিলেন। ফলে বিএনপি অঙ্গণে তো বটেই, এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝেও সাখাওয়াত হোসেন খান একজন পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন।


তবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় মেতে উঠা একটি পক্ষ আলোচিত এই বিএনপি নেতাকে বিতর্কে জড়ানোর মিশনে নেমেছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কর্মীদের। আদালত পাড়ায় একটি মামলা ঘিরে বাদী-বিবাদী পক্ষের মাঝে মারামারির ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে জলঘোলা করার অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। ওই পক্ষটি উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সাখাওয়াত হোসেন খানকে জড়িয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।


তথ্য বলছে, সুস্থ-ধারার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া বিএনপির একটি নিষ্ক্রীয় পক্ষ শুরু থেকেই সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেননি। ফলে মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটি যেদিন ঘোষণা হয়, সেদিন থেকেই ওই পক্ষটি সাখাওয়াত বিরোধী অবস্থান নেয়া শুরু করেন। তবে নানা প্রচেষ্টা চালিয়েও সাখাওয়াত হোসেন খানকে মাইনাসে ব্যর্থ হয় তারা। কমিটি ভাঙার চেষ্টায় বিদ্রোহী হয়ে উঠলেও সেই কৌশল ধোপে টিকেনি।

মূলত, সাখাওয়াত হোসেনের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও সক্রিয়তার কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তো বটেই, খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিরোধী পক্ষটি ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিএনপি অঙ্গণে প্রচলিত আছে।


রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল বলছেন, আইন-আদালত কিংবা রাজনৈতিক অঙ্গণ; উভয় ক্ষেত্রেই সাখাওয়াত হোসেন খান নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির বেশ কিছু নেতা যেখানে নানা কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন, সেখানে সাখাওয়াত হোসেন খান ছিলেন ভিন্ন। আগামীতে দলীয় মনোনয়ন কিংবা কেন্দ্রের নীতি নির্ধারকদের অনুকম্পা আদায়ে সাখাওয়াত হোসেন খানের এই রাজনৈতিক ক্লিন ইমেজ প্রাধান্য পাবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


এ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহবায়ক হওয়ার পূর্বে সাবেক কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় প্রায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে তার সক্রিয় ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে শুরু থেকেই। আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজপথে যখন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতাকেই পাওয়া যায়নি, ঠিক তখনও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান একাই রাজপথ সরব রেখেছিলেন তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেই তার পিছুটান লক্ষ্য করা যায়নি। একাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির হাল ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।


আইন অঙ্গণে প্রতিবাদী হিসেবে খ্যাতি পাওয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রবল চাপের মুখে পড়েও নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাতখুন হত্যাকাণ্ডে বাদি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। ওই সময়ের ক্ষমতাসীনদের চোখ রাঙানির পরও দমে যাননি তিনি। সাতখুন মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দেশ-বিদেশে আলোচনায় থাকা সাখাওয়াত হোসেনের উপর দলের নীতি-নির্ধারকরাও আস্থা রেখেছেন বারংবার। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়াই করেছেন তিনি। তবে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়লাভ করলেও ওই নির্বাচনে বিতর্ক ছিলো বিভিন্ন অঙ্গণে।


ফলে সাখাওয়াতের প্রতি আস্থা হারায়নি বিএনপির হাইকমান্ড। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে ঢেলে সাজাতে সাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হলে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও চ্যালেঞ্জের মুখেও এতে সফল হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন। সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সাথে নিয়ে মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডের কমিটি করেছেন তিনি। এরপরও একটি মহল সাখাওয়াতকে মাইনাস তথা মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ভাঙ্গার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এতে সফল হয়নি ওই পক্ষটি।


সূত্র জানিয়েছে, সাখাওয়াত হোসেন খান শুরু থেকেই রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে গেলেও ওই সময়ে তার বিরোধী পক্ষটি ছিলেন রাজপথের বাহিরে। এমনকি কারো কারো বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগও রয়েছে। এরপরও বর্তমানে বিএনপির সুদিন দেখে ওই আঁতাতকারী পক্ষটি মহানগর বিএনপির কমিটি যেমন হস্তগত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত, তেমনই আগামী দিনের নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতিতেও সরব হওয়ার চেষ্টায় আছেন। যদিও আঁতাতকারী ও দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পাশাপাশি বিগত সময়ে যারা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই যোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়া হবে বলেও স্পষ্ট করেন বিএনপির এই হাইকমান্ড। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও বিতর্কিত, নিষ্ক্রীয়, সুযোগ সন্ধানী ও সাখাওয়াত বিরোধী পক্ষগুলোতে হতাশা দেখা দিয়েছে মোটা দাগে। অনেকেই হিসেব-নিকেষ কষছেন। ত্যাগ, শ্রম, নির্যাতিত, অবস্থান, সক্ষমতা, কর্র্মীবান্ধব, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বিবেচনায় দলের প্রার্থী নির্ধারণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রতীক উঠতে পারে সাখাওয়াত হোসেন খানের হাতেই; এমন গুঞ্জন চলছে বিএনপির তৃণমূলে।

শেয়ার করুন