বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। বিশেষ করে ৩০০ ফিট এলাকার আগত হাজারো নেতাকর্মীদের জন্য রূপগঞ্জ অংশে স্থাপন করা হয়েছে ৬টি বিশাল এলইডি ডিসপ্লে।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, তারেক রহমানকে দেখার ও তার বক্তব্য শোনার সুবিধার্থে পুরো রাজধানীজুড়ে কয়েকশ এলইডি ডিসপ্লে এবং প্রায় ৯০০ মাইক স্থাপন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের নীলা মার্কেট থেকে মূল সভামঞ্চ পর্যন্ত রাস্তায় ৬টি বড় ডিসপ্লে বসানো হয়েছে। যারা ভিড়ের কারণে মূল মঞ্চের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না, তারা যেন রাস্তায় দাঁড়িয়েই প্রিয় নেতার বক্তব্য শুনতে ও তাকে দেখতে পারেন, সেজন্যই এই ব্যবস্থা।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি (আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী) বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য পুত্র আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। রাষ্ট্র সংস্কার ও পরিচালনায় এই মুহুর্তে তার চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি দ্বিতীয় কেউ নেই। তাকে স্বৈরাচারি আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিত ভাবে দীর্ঘ ১৭ বছর এই দেশের মাটিতে আসতে দেয়নি। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন হলেন উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা আগে থেকেই বলে বেড়াতাম যে, তিনি এই দেশের হাল ধরতে একদিন বীরের বেশে ফিরবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি আজ বীরের বেশেই তার জন্মভূমিতে পা রাখবেন। এই মুহুর্তটা কেবল আমাদের জন্যই নয় বরং গোটা দেশের সর্বস্তরের কল্যাণকামী মানুষের জন্য বিশেষ কিছু। আমি আমাদের নেতাকে বরন করে নিতে আমাদের নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ৩০০ ফিটেই অবস্থান করছি। সারাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে সভাস্থল লোকারণ্য করে ফেলেছে।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী সহ সাধারণ সমর্থক মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক লোকবল নিয়ে তিনি রূপগঞ্জের ৩০০ ফিটে অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, এই দিনটির জন্য আমরা দীর্ঘ ১৭টি বছর অপেক্ষা করেছিলাম। মহান আল্লাহ রব্বুল আল-আমিনের দরবারে শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তিনি আমাদের সকলের দোয়া কবুল করেছেন। আরো কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তিনি আমাদেরকে এই ঐতিহাসিক দিনটি দেখার এবং স্বাক্ষি থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা যেই নেতার এক নির্দেশনায় বিগত ১৭টি বছর রাজপথে নির্দিধায় লড়ে গেছি, যেই নেতার এক নির্দেশনায় গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের জন্য রাজপথে নিজের রক্ত ঝরিয়েছি, জীবন ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে স্বৈরাচারের গুলির মুখেও আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছি, আজ সেই নেতাকে তার নিজ মাতৃভূমিতে আগমনকালে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা উদগ্রীব হয়ে আছি। গোটা দেশের মানুষ আজ তার অপেক্ষায় আছে। তাকে স্বাগত জানাতে এদেশের মানুষ তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাত থেকেই রাস্তায় রাস্তায় অবস্থান করছেন। তাকে দেখার জন্য ছুটে এসেছেন। আজ যেই সমাগম হয়েছে, উপস্থিতির দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। জনাব তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে এই দেশের মানুষ বিশ্বাস করে।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, ‘আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান সাহেব দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। এই প্রত্যাবর্তনের দিন তিনি আমাদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগমনী বার্তা দিবেন। আমরা তার আগমনকে কেন্দ্র করে আরও বেশি আনন্দিত। ইতিমধ্যেই আমরা রূপগঞ্জের ৩০০ ফিটে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নেতাকর্মীরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে আগের রাত থেকেই সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। আসলে সেদিন প্রত্যেকটা মানুষের জন্য হবে ঐতিহাসিক দিন। আমরা নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ তার অপেক্ষায় রয়েছি। সকলেই চাইবে নেতাকে স্বগত জানাতে তাদের অবস্থান জানানোর জন্য। আমারা তার অপেক্ষায় আছি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘নারাণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে বরণ করতে আমরা ৩০০ ফিটে অবস্থান করছি। আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমরা অপেক্ষায় আছি। আমাদের নেতাকর্মীরা রাত থেকেই এখানে অবস্থান নিয়ে রেখেছে। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আছে। আসলে এই দিনটির জন্য আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর অপেক্ষায় ছিলাম। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।’





